শবে মেরাজ ২০২৬: লাইলাতুল মেরাজের গুরুত্ব, ইতিহাস ও ফজিলত - BanglaScope News | Digital Bangla News Portal

সর্বশেষ

Home Top Ad

UAP_drhjoy

শবে মেরাজ ২০২৬: লাইলাতুল মেরাজের গুরুত্ব, ইতিহাস ও ফজিলত

আজ শুক্রবার সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই মুসলিম উম্মাহর জীবনে নেমে আসবে এক অতুলনীয় ও মহিমান্বিত রাত। রজব মাসের ২৬ তারিখের এই পবিত্র রজনি পরিচিত লাইলাতুল মেরাজ বা শবে মেরাজ নামে। ইসলামের ইতিহাসে এই রাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ।


এই মহিমান্বিত রাতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহে এক অনন্য সফরের সৌভাগ্য লাভ করেছিলেন। এদিন তিনি পবিত্র কাবাঘর থেকে বায়তুল মুকাদ্দাসে গমন করেন, এরপর একে একে সপ্তম আসমান অতিক্রম করে সিদরাতুল মুনতাহা হয়ে আরশে আজিমে মহান আল্লাহর দিদার লাভ করেন। এ সময় তিনি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে মুসলমানদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হওয়ার নির্দেশ নিয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসেন। এই সফরের মধ্য দিয়ে তিনি সৃষ্টিজগতের বহু অজানা রহস্য প্রত্যক্ষ করেন।


শবে মেরাজ উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে রাতটি পালন করেন। কুরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ, জিকির-আসকার, দোয়া-দরুদ পাঠ, ওয়াজ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করেন তাঁরা। বাংলাদেশসহ বিশ্বের নানা দেশের বিভিন্ন মসজিদ ও ইসলামিক প্রতিষ্ঠানে এ উপলক্ষে বিশেষ ধর্মীয় আয়োজন করে থাকে।


ইসলাম ধর্মে শবে মেরাজের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ এই রাতেই নামাজ মুসলমানদের জন্য ফরজ করা হয়, যা ঈমানের পর ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। প্রতিদিন পাঁচবার নামাজ আদায়ের বিধান এই রাতেই মহানবী (সা.) উম্মতের জন্য নিয়ে আসেন।


মুসলমানদের বিশ্বাস অনুযায়ী, এই রাতে আল্লাহ তাআলার রহমত ও মাগফিরাত বিশেষভাবে বর্ষিত হয়। বান্দার দোয়া কবুলের অপার সুযোগ থাকেন। তাই এই রাতকে ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে অতিবাহিত করাকে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ মনে করা হয়।


শবে মেরাজ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনের সবচেয়ে বিস্ময়কর ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনাগুলোর একটি। নবুয়তের ইতিহাসে এমন সম্মান ও মর্যাদা আর কোনো নবীর ভাগ্যে জোটেনি। এই ঘটনার মাধ্যমে সাইয়েদুল আম্বিয়া হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অনন্য মর্যাদা সৃষ্টিজগতের সামনে সুস্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।


‘মেরাজ’ শব্দের অর্থ ঊর্ধ্বারোহণ। আর লাইলাতুল মেরাজ অর্থ ঊর্ধ্বারোহণের রাত। এই রাতে মহানবী (সা.) জান্নাত ও জাহান্নাম অবলোকন করেন, পূর্ববর্তী নবী-রসুলদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং মহান আল্লাহর অসংখ্য নিদর্শন প্রত্যক্ষ করেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—

“পবিত্র ও মহিমাময় তিনি, যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায় ভ্রমণ করিয়েছেন, যার আশপাশ আমি বরকতময় করেছি, তাকে আমার নিদর্শন দেখানোর জন্য। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।” (সুরা বনি ইসরাইল: ১)


ইতিহাসবিদদের মতে, নবুওত প্রাপ্তির একাদশ বছরে, ৬২০ খ্রিস্টাব্দে রজব মাসে এই ঐতিহাসিক ঘটনা সংঘটিত হয়। হজরত জিবরাইল (আ.)-এর সঙ্গে বোরাক নামক বাহনে চড়ে নবীজি (সা.) প্রথমে মক্কা থেকে বায়তুল মুকাদ্দাসে যান। সেখানে অন্যান্য নবী-রসুলদের ইমামতি করে দুই রাকাত নামাজ আদায় করেন। এরপর সপ্তম আসমান পেরিয়ে সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত সফর করেন। পরবর্তীতে রফরফ নামক বাহনে আরশে আজিমে পৌঁছে মহান আল্লাহর দিদার লাভ করেন।

Post Bottom Ad

UAP_drhjoy