ট্রাম্পের নতুন বিশ্বসমীকরণ : ভেনেজুয়েলার পর নজরে আরও ৫টি দেশ - BanglaScope News | Digital Bangla News Portal

সর্বশেষ

Home Top Ad

UAP_drhjoy

ট্রাম্পের নতুন বিশ্বসমীকরণ : ভেনেজুয়েলার পর নজরে আরও ৫টি দেশ


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের সূচনালগ্নেই তার পররাষ্ট্রনীতির উচ্চাভিলাষী রূপ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ভেনেজুয়েলাকে নিয়ে দেওয়া হুমকি বাস্তবে রূপ দিতে এক নাটকীয় অভিযানে কারাকাসের কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত একটি কম্পাউন্ড থেকে দেশটির প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রীকে আটক করার ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। 


এই অভিযানের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ট্রাম্প স্মরণ করান ১৮২৩ সালের মনরো ডকট্রিন, যার মাধ্যমে পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের নীতি ঘোষিত হয়েছিল। তবে এবার তিনি এটিকে নতুন নাম দিয়ে আখ্যা দিয়েছেন ‘ডনরো ডকট্রিন’—যার মাধ্যমে আমেরিকার আধিপত্য আরও জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠার বার্তা দেওয়া হচ্ছে।


ভেনেজুয়েলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাববলয়ের অন্যান্য দেশ নিয়েও ট্রাম্প যে সতর্ক সংকেত দিয়েছেন, তার কয়েকটি নিচে তুলে ধরা হলো—

গ্রিনল্যান্ড

গ্রিনল্যান্ডে ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি—পিটুফিক স্পেস বেস—কার্যকর রয়েছে। তবে ট্রাম্পের লক্ষ্য এখানেই থেমে নেই; তিনি পুরো দ্বীপটিকেই যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে দেখতে চান। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ড আমাদের প্রয়োজন’, একই সঙ্গে অভিযোগ করেন যে এলাকাটি রুশ ও চীনা জাহাজে ভরে যাচ্ছে।


ডেনমার্কের অধীন এই বিশাল আর্কটিক দ্বীপটি বিরল খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ, যা আধুনিক প্রযুক্তি ও সামরিক সরঞ্জাম তৈরিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে এসব খনিজ উৎপাদনে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীন অনেক এগিয়ে। পাশাপাশি, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আর্কটিক অঞ্চলে নতুন নৌপথ উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা গ্রিনল্যান্ডকে আরও কৌশলগত করে তুলেছে।


গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স ফ্রেডরিক নিলসেন ট্রাম্পের প্রস্তাবকে ‘অবাস্তব কল্পনা’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডরিকসেন সতর্ক করে বলেন, নেটোভুক্ত কোনো দেশের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিলে তার গুরুতর পরিণতি হবে।

কলম্বিয়া

ভেনেজুয়েলার অভিযানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে প্রকাশ্যে সতর্ক করেন। খনিজ ও তেলসমৃদ্ধ কলম্বিয়া দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত। ট্রাম্প প্রশাসন অভিযোগ করছে, পেত্রো সরকার কার্টেল দমনে যথেষ্ট কঠোর নয়।


এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে ট্রাম্প বলেন, কলম্বিয়া ‘একজন অসুস্থ মানুষের হাতে পরিচালিত’, এবং ইঙ্গিত দেন যে প্রয়োজনে সেখানে অভিযান চালানো হতে পারে। যদিও ঐতিহাসিকভাবে কলম্বিয়া যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং মাদকবিরোধী লড়াইয়ে বিপুল সামরিক সহায়তা পেয়ে থাকে।

ইরান

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন, বিক্ষোভ দমনে যদি আবার প্রাণহানি ঘটে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘কঠিন জবাব’ দেবে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা এবং ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনার পর এই বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে।

মেক্সিকো

মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ ট্রাম্পের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম আলোচিত ইস্যু। দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতেই তিনি মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দেন। মাদক ও অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে মেক্সিকোর ভূমিকা নিয়েও তিনি বারবার অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাম স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সামরিক হস্তক্ষেপ তিনি সমর্থন করেন না।

কিউবা

দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় থাকা কিউবাকে নিয়ে ট্রাম্প তুলনামূলকভাবে নরম সুরে কথা বলেছেন। তার দাবি, দেশটি এমনিতেই অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে, তাই সামরিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন নেই। কিউবা ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় মাদুরো সরকারের পতন হলে হাভানার পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।


মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও কিউবার শাসনব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ট্রাম্পের বক্তব্যকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।


সূত্র: বিবিসি

Post Bottom Ad

UAP_drhjoy